Mobile

একজন Mobilephone ইউজার  হিসেবে আপনি কি পারবেন আপনার জীবনের একটি মুহূর্তও সেলফোন ছাড়া বেঁচে থাকতে? আমি জানি আপনার উত্তরটি কি হবে। আসলে একজন সেলফোন ইউজার  যখন তার সেলফোনটি ব্যবহার করে তার জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তার পক্ষে তার সেলফোন ছাড়া এক মূহুর্ত্তও চলাটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু একজন সফল এবং ব্যস্ত মোবাইলফোন ইউজার  হওয়া সত্ত্বেও আমরা কি জানি আমাদের পছন্দের মোবাইলফোনটির সঠিক ইতিহাসটি?

আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সাথে অঙ্গাঅঙ্গি  ভাবে জড়িয়ে থাকা মোবাইলটি কি প্রাথমিক অবস্থাতেই এমন ভাল ফিচার্ড ও উন্নত ডিজাইন সমৃদ্ধ ছিল? প্রথম যে মোবাইলটি বিশ্ববাজারে এসেছিল সেটি কি প্রাথমিকভাবেই এতটা জনপ্রিয় হতে পেরেছিল যতটা বর্তমানে আছে ? প্রথম আবিষ্কৃত মোবাইলফোনটি তখনকার মানুষজন কিভাবে গ্রহণ করেছিল?

হ্যাঁ, জানি প্রত্যেক মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর মনে এই প্রশ্নটা দানা বেঁধে আছে। আমি এখানে আপনাদের মনে জেগে ওঠা  এমন সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনাদের সাহায্য করতেই এসেছি।

Mobilephone এর  চিন্তার সূত্রপাত

মূলত Mobilephone আবিষ্কার এর চিন্তাটি আসে টেলিযোগাযোগ মাধ্যমটাকে সহজবহনযোগ্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে। কারন, টেলিফোনের সুবিধা ছিল বহুল তারপর মানুষের বহনযোগ্য তারবিহীন মাধ্যম হিসেবে মোবিলেফোনের আবিষ্কার মানব সভ্যতাতে ও প্রযুক্তিতে  যুগান্তকারী  মোর হিসেবে কাজ করেছিল। ইনফ্যাক্ট,টেলিকম্যুনিকেশন সিস্টেম এই নতুন চিন্তাধারা পুরো বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল মোবাইলফোন আবিষ্কারের মাধ্যমেই।

প্রথম আবিষ্কার

যদিও Mobilephone আবিষ্কারের পর থেকে এপর্যন্ত খুব কম সময়ে অবিশ্বাস্যভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু বর্তমান মোবাইলফোনটি কিন্তু এত ছোট এবং খুব একটা ভাল দেখতে ছিল না। সে যাই হোক, ১৯৮৩ তে যে মোবাইলফোনটি সর্বপ্রথম বাজারে আনা হয়েছিল সেটি দেখতে একটি পকেট বা পার্সের  মতো বেশ বড় এবং কিন্তু জটিল ছিল কারিগরি দিক থেকে। যদিও এটি খুব বেশি একটা সুবিধাবহুল ছিল না প্রযুক্তির দিক থেকে। যদিও সেটি সেসময়কার মডার্ন টেকনোলোজিকে উপস্থাপন করতো।

আবিস্কারক প্রতিষ্টান

আমি ,আপনি বর্তমান এ যে ভাল ফিচার্ড মোবাইলটি ব্যবহার করছি সেটির প্রথম আবিস্কারক প্রতিষ্টানটি হলো বর্তমান বিশ্ববাজার এ বহুলজনপ্রিয় মোবাইলফোন কোম্পানি মটোরোলা। তাদের আবিষ্কৃত ফোনটি তারা প্রথমে বিশ্ববাজার নিয়ে এসেছিলো ১৯৮৩ তে। মোবাইলফোনটির  মডেলটি ছিল মটোরোলা ডায়ানটিএইচ ৮০০০এক্স। যদিও এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকটা বড় ছিল আকারে কিন্তু তখন এটিকে সবচেয়ে ছোট ও সহজ বহনযোগ্য টেলিযোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল।

প্রাথমিক ব্যবহার

অনেকের মনে এই প্রশ্নটা থাকতে পারে প্রাথমিক অবস্থাতেই কি Mobilephone এ বিশেষ কোনো ফিচার্ড অ্যাড করা ছিল যার মাধ্যমে কথা বলার পাশাপাশি আরো অন্য কাজ যেমন ভয়েস মেইল এর সুবিধা এবং ব্যাটারী লাইফ পাওয়া যেত অনেকটা বেশি। কিন্তু না, প্রাথমিকভাবে মোবাইলফোনটি শুধুমাত্র রেডিও মাধ্যম ব্যবহার করে কথা বলার কাজে ব্যবহার করা হতো। যদিও DynaTac এবং পরবর্তী মডেলগুলো ছোট করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাথমিকভাবে মোবাইলফোনে এত সব ফিচার্ড ছিল না।

অন্যান্য ফিচার্ড সংযুক্তিকরণের প্রাথমিক সূত্রপাত

প্রারম্ভিক সেলফোন শুধুমাত্র কথা বলার জন্য ব্যবহার করা হলেও ধীরে ধীরে যেমন এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে ঠিক তেমনই এর সাথে জড়িত টেকনোলজিস্টরা চেষ্টা চালাতে থাকেন কি ভাবে এটিকে আরো সুবিধা সমৃদ্ধ করে এতে উন্নয়ন করা যায়। যদিও আপনি আমি বা আমরা সকলেই আজ অনেক ভালো ফিচার্ড সমৃদ্ধ ফোন ব্যবহার করছি।কিন্তু এই সেলফোনের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছিল সেলফোন নিয়ে কিছু করার আগ্রহী কিছু ব্যক্তিদের উন্নত চিন্তা ধারার কল্যানে।

এই সূত্র ধরেই পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ভয়েস মেইলের মতো বৈশিষ্ট্যগুলো যোগ করা হয়। যা মোবাইল ফোনের সার্বিক চিন্তা ধারাকে আরো উন্নত করেছে।

প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন

বর্তমান এ আমি বা আমরা যে সেলফোনটি ব্যবহার করছি এটি যে মোবাইল ফোন এর নির্মাণের পিছনে যে বা যারা কাজ করেছেন তাদের উন্নত মস্তিষ্কের ফসল এইবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে প্রথম আবিষ্কৃত মোবাইল ফোনটি শুধু রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ভয়েস ট্রান্সমিট করার সিস্টেম ছিল। পরবর্তীতে নির্মাতারা বুঝতে পারে যে তারা তাদের ফোনগুলিতে আরো অন্যান্য বিষয়গুলো সংহত করে বৈশিষ্ট্যগুলিকে প্রসারিত করতে পারে।

যার ফলস্বরূপ প্রথম স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে ইমেইল এক্সসেস দেয়। এবং ফ্যাক্স মেশিন এবং ঠিকানা বই হিসেবে ফোনটি ব্যবহার করার সুবিধা দেয়।

আকারে বড়

যদিও প্রাথমিক অবস্থাতে মোবাইল ফোন আকারে যথেষ্ট বড় ছিল। এটির ওয়েট ছিল ৯৫০ গ্রাম এবং এটি মটোরোলা কোম্পানির একটি মোবাইল ফোন ছিল। এটি বড় এবং জটিল ছিল ব্যবহারের দিক থেকে। যদিও মোবাইলফোনের পরবর্তী সংকরণগুলো আকারে ছোট এবং ব্যবহারেও সহজ এবং যথেষ্ট আধুনিক সংকরণের বহির্প্রকাশ পায়। মূলত ৯০ দশকের পরের থেকেই  মোবাইল ফোন কোম্পানি গুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং কিভাবে আকার ছোট করে ভালো বিষয়সমূহ সংযুক্ত করা যায় এই কাজে মনোনিবেশ করে।

ব্যাটারী এবং অন্যান্য বিষয়

যদিও প্রাথমিকভাবে যে সেলফোন মটোরোলা কোম্পানি কর্তৃক বাজারে আনা হয়েছিল সেটির ভালো ব্যাটারী ব্যাকআপ দেয়ার ক্ষমতা ছিল না। মাল্টিমিডিয়া বিষয়টি যেটি বর্তমানে একটি কমন ফিচার্ড সেটিও অনুপস্থিত ছিল। এমন কি ভয়েস মেইল এর বিষয়টিও পরবর্তীতে উন্নয়ন করা হয়। যদিও প্রথম মোবাইল ফোনটি বিজ্ঞান এর চমকপ্রদ আবিষ্কার ছিল তবুও আধুনিক মোবাইলেফোনের ফিচার্ড গুলো সম্পূর্ণ  অনুপস্থিত ছিল।

ভবিষ্যৎ সেলফোন

মোবাইলফোন বর্তমানে সবচেয়ে উন্নয়ন করছে এবং এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে .সাথে এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর আধুনিক সব ফিচার্।  মোবাইলফোন ভবিষ্যৎ এ আরো অনেক উন্নয়ন করবে এবং মোবাইলেফোনের কোম্পানি গুলো নিজেরদের প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে আরো নতুন নতুন সেলফোন উপহার দেবে এটা আশা করাই বা দোষের কিসের?

 

সেলফোন প্রাথমিক অবস্থাতে শুধু রেডিও ফ্রেকুয়েন্সি ব্যবহার করে কথা ট্রান্সমিট করার মাধ্যম হিসেবে Mobilephone বহির্প্রকাশ করেছিল। যেখানে ব্যাটারী ,ডিসপ্লে এবং মাল্টিমিডিয়ার তেমন কোন সুবিধা ই ছিল না। সে যাই হোক, প্রাথমিক ডিভাইস গুলোর softwere সিস্টেম ততটা উন্নত ছিল না। কিন্তু সর্বোপরি বলা যায় ৯০ দশক এ মটোরোলা, নোকিয়া ,এক্সন কোম্পানির হাত ধরেই বর্তমান মোবাইল ফোনের জয়যাত্ৰা শুরু হয়েছিল যা এখনো অব্যাহত আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here